হাম (Measles)



হাম (Measles)
 হলো 'মিজেলস' (Rubeola) ভাইরাসজনিত একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে, তবে যে কোনো বয়সেই হতে পারে। এটি প্রধানত শ্বাসের মাধ্যমে এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
ভাইরাস সংক্রমণের ১০-১২ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে।
  • উচ্চমাত্রার জ্বর: প্রায়শই ১০৪° ফারেনহাইটের বেশি জ্বর হয়।
  • কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া: তীব্র কাশি এবং সর্দি।
  • রক্তবর্ণের চোখ: চোখ লাল হওয়া এবং পানি পড়া।
  • জ্বরের ৪ দিন পর র‍্যাশ: শুরুতে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots) দেখা দিতে পারে। এরপর জ্বরের ৪ দিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ বা হামের দাগ ছড়িয়ে পড়ে।
২. হাম কীভাবে ছড়ায়?
  • বাতাসবাহিত: আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশি দিলে জীবাণু বাতাসে ভেসে থাকে এবং ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রামক থাকতে পারে।
  • সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা গলার নিঃসরণের সরাসরি সংস্পর্শে আসলে।
  • সংক্রামক সময়: র‍্যাশ ওঠার ৪ দিন আগে এবং ৪ দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে।
৩. জটিলতা (Complications)
হাম সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে, যেমন—
  • নিউমোনিয়া (ফুসফুসে সংক্রমণ)।
  • কানের সংক্রমণ।
  • মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis)।
  • অন্ধত্ব বা তীব্র ডায়রিয়া।
৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার
হামের কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • টিকা (Vaccination): হাম-রুবেলা (MR) টিকা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সাধারণত ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়।
  • করণীয়: আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশনে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া, বা অতিরিক্ত অচেতন ভাব দেখা দেয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url