হাম (Measles)

হাম (Measles) হলো 'মিজেলস' ভাইরাসজনিত একটি অতি সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায় । উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি এর প্রধান লক্ষণ । এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং সঠিক সময়ে টিকা (MMR) না নিলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা হতে পারে । হামের বিস্তারিত লক্ষণ ও কারণ: প্রাথমিক লক্ষণ: ভাইরাস সংক্রমণের ১০-১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়। উচ্চ তাপমাত্রা (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), তীব্র সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া মুখের ভেতর দাগ: ফুসকুড়ি ওঠার আগে গালে সাদা দাগ (Koplik spots) দেখা যেতে পারে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বরের চার দিন পর মুখ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সারা শরীর লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে । কারণ: রুবেওলা (Rubeola) নামক ভাইরাস ছড়ানোর উপায়: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে জীবাণু বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে । সংক্রমিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শ বা লালার মাধ্যমে ছড়ায় । লক্ষণ প্রকাশের ৪ দিন আগে এবং পরে পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি রোগটি ছড়াতে পারে । চিকিৎসা ও করণীয়: হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ নেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার (পানি, ডাব, শরবত) এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে । জ্বর কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৪-৭ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখা উচিত । প্রতিরোধ: টিকাদান: হাম প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো সময়মতো এমএমআর (MMR) টিকা দেওয়া । স্বাস্থ্যবিধি: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, তীব্র ডায়রিয়া, অনবরত বমি বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url