প্রস্রাব ইনফেকশন / UTI
প্রস্রাব ইনফেকশন বা ইউরিন ইনফেকশন (UTI) একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর রোগ। এটি মূলত প্রস্রাবের রাস্তা বা মূত্রনালীতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটালে হয়। নারী ও পুরুষ উভয়েরই এই সমস্যা হতে পারে, তবে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এই সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই প্রস্রাব ইনফেকশন কেন হয় এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি।
প্রস্রাব ইনফেকশন কেন হয়
প্রস্রাব ইনফেকশন সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। বিভিন্ন কারণে ব্যাকটেরিয়া সহজেই মূত্রনালীতে প্রবেশ করে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। নিচে প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হলো।
অপরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
যদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা হয়, তাহলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।
কম পানি পান করা
যারা কম পানি পান করে, তাদের প্রস্রাব কম হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া শরীরে জমে থাকতে পারে এবং সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা
অনেকেই কাজের ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। এতে মূত্রনালীতে জীবাণু জমে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে।
ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি হলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
অপরিষ্কার টয়লেট ব্যবহার
অপরিষ্কার টয়লেট ব্যবহার করলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যৌন সম্পর্কের কারণে
অনেক সময় যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা
যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সহজেই বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
প্রস্রাব ইনফেকশনের লক্ষণ
প্রস্রাব ইনফেকশন হলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। যেমন—
প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া হওয়া
বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব হওয়া
প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া
তলপেটে ব্যথা হওয়া
জ্বর আসা
প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন হওয়া
কখনো কখনো প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রস্রাব ইনফেকশনের প্রতিকার
প্রস্রাব ইনফেকশন প্রতিরোধ ও প্রতিকার করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
প্রথমত, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। বেশি পানি পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে জীবাণু বের হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার হতে হবে।
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা যাবে না। যখন প্রস্রাবের চাপ অনুভব হবে, তখন দ্রুত টয়লেটে যেতে হবে। পরিষ্কার টয়লেট ব্যবহার করা উচিত।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেতে হতে পারে। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
ঢিলেঢালা ও পরিষ্কার কাপড় পরা ভালো। প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার কম খাওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়া ভালো।
উপসংহার
প্রস্রাব ইনফেকশন একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে এটি বড় রোগে পরিণত হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে আমাদের সুস্থ রাখতে।
Comments
Post a Comment